?>
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৩ জুলাই জারি করা এক পত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ময়মনসিংহ-১১ আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদের ১১ এপ্রিল পাঠানো আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
পত্রে উল্লেখ করা হয়, ১৯০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত আনন্দমোহন কলেজ ময়মনসিংহ বিভাগের উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রধান বিদ্যাপীঠ। বর্তমানে কলেজটিতে প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এবং ২২টি বিষয়ে পাঠদান করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, শুধু ময়মনসিংহ নয়, টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীও এ কলেজে পড়াশোনা করেন। এছাড়া রংপুর, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার অনেক মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীও উচ্চশিক্ষার জন্য এই কলেজে আসেন।
এ অবস্থায় আনন্দমোহন কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এ বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন জরুরি ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টার একান্ত সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং অর্থ ও পরিকল্পনা-সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।
]]>এ উপলক্ষে রোববার (২৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় ময়মনসিংহ নগরীর পাটগুদাম উচ্চ বিদ্যালয়ে স্কুল পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো.সাইফুর রহমান।
তিনি জানান, প্রতি রোববার জেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে এ অভিযান পরিচালিত হবে। কর্মসূচি সফল করতে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘ক্লিন বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে ময়মনসিংহের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতি রোববার ‘ক্লিন সানডে’ নামে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। সামাজিক মূল্যবোধের উত্তম চর্চাগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই শুরু করতে চান তারা।
]]>রোববার (২৬ জুলাই) ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো দা, কোদাল, নিহতের রক্তমাখা পোশাক ও একজোড়া স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত সোহেল সরকার ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত ১৬ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন সোহেল। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এরপর গত ২২ জুলাই বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের খবরে পুলিশ ও স্বজনরা পরানগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া গ্রামের অম্বিকাগঞ্জ কলেজ মাঠের উত্তর পাশের একটি বাগানে গিয়ে একটি বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান। পরে ঘটনাস্থলের পাশেই স্কুলের সীমানাপ্রাচীর-সংলগ্ন মাটির নিচ থেকে মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্বজনরা মরদেহটি সোহেল সরকারের বলে শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় ২৫ জুলাই নিহতের বাবা নূরুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ও কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশনায় একটি বিশেষ তদন্ত দল কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মীরকান্দাপাড়া গ্রামের আব্দুল রশিদের ছেলে সেলিম ওরফে নাপিত সেলিম (৩২), একই গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে মো. সেলিম (৩০), রমজান আলীর ছেলে আব্দুল কাদির ওরফে আলামিন (২৫) এবং আব্দুল জলিলের ছেলে লাল চাঁন ওরফে লালু (২৬)।
পুলিশ আরও জানায়, ২৫ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভালুকা উপজেলার আঙ্গারগাড়া গ্রাম থেকে মো. সেলিমকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোতোয়ালী থানার সারবাজার এলাকা থেকে সেলিম ওরফে নাপিত সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন মীরকান্দাপাড়া এলাকা থেকে আলামিন এবং শহরের মহারাজা রোড এলাকা থেকে লালুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে মো. সেলিম দাবি করেছেন, তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে সোহেল সরকার গত তিন মাস ধরে গোপনে ঢাকায় বসবাস করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি কৌশলে সোহেলকে ঢাকা থেকে ডেকে আনেন। পরবর্তীতে অন্য আসামিদের সঙ্গে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশের দাবি, হত্যার পর মরদেহ গুমের চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
]]>