?>
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ১৩ জুলাই জারি করা এক পত্রে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এতে বলা হয়, ময়মনসিংহ-১১ আসনের সংসদ সদস্য ফখর উদ্দিন আহমেদের ১১ এপ্রিল পাঠানো আধা-সরকারি (ডিও) পত্রের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।
পত্রে উল্লেখ করা হয়, ১৯০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত আনন্দমোহন কলেজ ময়মনসিংহ বিভাগের উচ্চশিক্ষার অন্যতম প্রধান বিদ্যাপীঠ। বর্তমানে কলেজটিতে প্রায় ৩৫ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে এবং ২২টি বিষয়ে পাঠদান করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, শুধু ময়মনসিংহ নয়, টাঙ্গাইল, জামালপুর, শেরপুর, নেত্রকোণা, কিশোরগঞ্জ ও গাজীপুর জেলার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীও এ কলেজে পড়াশোনা করেন। এছাড়া রংপুর, রাজশাহী ও সিলেট বিভাগের বিভিন্ন জেলার অনেক মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীও উচ্চশিক্ষার জন্য এই কলেজে আসেন।
এ অবস্থায় আনন্দমোহন কলেজকে পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের সম্ভাব্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং এ বিষয়ে গৃহীত কার্যক্রমের অগ্রগতি প্রতিবেদন জরুরি ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ সংক্রান্ত চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপদেষ্টার একান্ত সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং অর্থ ও পরিকল্পনা-সংশ্লিষ্ট দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।
]]>এ উপলক্ষে রোববার (২৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টায় ময়মনসিংহ নগরীর পাটগুদাম উচ্চ বিদ্যালয়ে স্কুল পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মো.সাইফুর রহমান।
তিনি জানান, প্রতি রোববার জেলার সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে এ অভিযান পরিচালিত হবে। কর্মসূচি সফল করতে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান বলেন, ‘ক্লিন বাংলাদেশ’ গড়ার লক্ষ্যে ময়মনসিংহের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রতি রোববার ‘ক্লিন সানডে’ নামে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হবে। সামাজিক মূল্যবোধের উত্তম চর্চাগুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই শুরু করতে চান তারা।
]]>আসলে একটি বাড়ির সৌন্দর্য শুধু সাজসজ্জায় নয়। পরিবারের মানুষের ভালোবাসা, যত্ন আর আন্তরিকতাই একটি ঘরকে সত্যিকারের বাড়ি বানায়। ছোট ফ্ল্যাটেও যদি হাসি আর স্বস্তি থাকে, তাহলে সেটিই হয়ে ওঠে সবচেয়ে সুন্দর ঠিকানা।
ছোট ফ্ল্যাট সাজানোর প্রথম শর্ত হলো অপ্রয়োজনীয় জিনিস কমিয়ে রাখা। যত কম অগোছালো জিনিস থাকবে, ঘর তত বড় আর খোলামেলা মনে হবে। অনেক দিন ব্যবহার করা হয় না এমন আসবাব, পোশাক বা সাজসজ্জার জিনিস সরিয়ে ফেলতে পারেন বা দান করে দিতে পারেন।
ছোট জায়গার জন্য বহুমুখী আসবাব বেশ কাজে দেয়। যেমন স্টোরেজ থাকা খাট, ভাঁজ করা যায় এমন ডাইনিং টেবিল, সোফা-কাম-বেড বা দেয়ালে লাগানো বুকশেলফ। এগুলো জায়গা বাঁচায় এবং ঘর গুছিয়ে রাখতে সাহায্য করে।
ঘর উজ্জ্বল রাখতে আলোর দিকেও নজর দিন। সম্ভব হলে দিনের আলো ঘরে ঢুকতে দিন। ভারী পর্দার বদলে হালকা রঙের পর্দা ব্যবহার করলে ঘর আরও খোলামেলা ও উজ্জ্বল দেখায়। রাতে নরম আলোয় ল্যাম্প বা ওয়াল লাইট ব্যবহার করলে আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি হয়।
দেয়ালের রঙও গুরুত্বপূর্ণ। সাদা, অফ-হোয়াইট, হালকা ধূসর বা প্যাস্টেল রঙের মতো হালকা শেড ব্যবহার করুন। দেয়ালে হালকা রঙ ব্যবহার করলে ছোট ঘরকে তুলনামূলক বড় মনে হয়। আর একটি বড় আয়না লাগালে আলো প্রতিফলিত হয়ে ঘর আরও প্রশস্ত দেখায়।
ঘরকে নিজের মতো করে সাজাতে ব্যক্তিগত স্মৃতির কিছু ছোঁয়া রাখুন। পরিবারের ছবি, ভ্রমণের স্মারক, প্রিয় কোনও ছবি বা সন্তানের আঁকা ছবি দেয়ালে সাজিয়ে রাখতে পারেন। এতে ফ্ল্যাটটি শুধু থাকার জায়গা নয়, আপনার জীবনের গল্পও তুলে ধরবে।
ঘরের ভেতরে কিছু সবুজ গাছও রাখতে পারেন। ছোট টবের মানিপ্ল্যান্ট, স্নেক প্ল্যান্ট বা পিস লিলির মতো গাছ ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি সতেজ পরিবেশ তৈরি করে।
রান্নাঘর ও বাথরুমে জায়গা বাঁচাতে স্মার্ট স্টোরেজ ব্যবহার করুন। দেয়ালে ঝুলানো র্যাক, ঝুড়ি, হুক বা ক্যাবিনেট অর্গানাইজার ব্যবহার করলে ছোট জায়গাও অনেক বেশি গুছিয়ে রাখা যায়।
]]>ফেসবুক জানিয়েছে, নতুন এই ব্যাজের মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজে বুঝতে পারবেন যে, কোনও অ্যাকাউন্ট একটি বাস্তব ব্যক্তির সঙ্গে যুক্ত। এর জন্য কোনও সাবস্ক্রিপশন ফি দিতে হবে না।
বর্তমানে প্রতিদিন বিশ্বের কোটি কোটি মানুষ যোগাযোগ, কেনাবেচা ও বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমের জন্য ফেসবুক ব্যবহার করছেন। এর মধ্যে রয়েছে মার্কেটপ্লেসে পণ্য কেনাবেচা, ডেটিংয়ের মাধ্যমে নতুন মানুষের সঙ্গে পরিচয় এবং গ্রুপে আলোচনায় অংশ নেওয়া।
ফেসবুকের মতে, এআই প্রযুক্তির উন্নতির কারণে এখন আগের তুলনায় সহজেই তৈরি করা যাচ্ছে কৃত্রিম ছবি, প্রোফাইল ও বার্তা। ফলে কোনও অ্যাকাউন্টের অপর পাশে সত্যিকারের মানুষ আছেন কি না, তা শনাক্ত করার প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে।
কীভাবে কাজ করবে ফেসবুক ভেরিফায়েড
ফেসবুক ভেরিফায়েডের জন্য ব্যবহারকারীকে একটি সহজ সেলফি-ভিত্তিক যাচাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এতে একটি ছোট ভিডিও সেলফি রেকর্ড করতে হবে। এরপর ফেসবুক সেই ভিডিওর সঙ্গে ব্যবহারকারীর বর্তমান প্রোফাইল ছবি মিলিয়ে দেখবে।
যাচাই প্রক্রিয়াটি সম্পূর্ণ বিনামূল্যের এবং সাধারণত কয়েক মিনিটের মধ্যেই সম্পন্ন হয়। তবে ভেরিফায়েড ব্যাজ পাওয়ার জন্য অ্যাকাউন্টকে ফেসবুকের নির্ধারিত বিশ্বাসযোগ্যতা ও নিরাপত্তার নিয়ম পূরণ করতে হবে।
কারা পাবেন এই সুবিধা
ফেসবুক ভেরিফায়েড ব্যবহার করতে পারবেন ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী যোগ্য ব্যবহারকারীরা। পাশাপাশি তাদের অ্যাকাউন্টকে ফেসবুকের কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড মেনে চলতে হবে।
বিশেষ করে প্রতারণা, জালিয়াতি ও বিভ্রান্তিকর কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে থাকা নিয়মগুলো অনুসরণ করতে হবে। কোনও অ্যাকাউন্টে ভুয়া বা অবিশ্বস্ত আচরণের প্রমাণ থাকলে তা ভেরিফিকেশনের জন্য অযোগ্য হতে পারে।
তবে বর্তমানে এই সুবিধা ফেসবুক পেজ বা প্রফেশনাল মোড অ্যাকাউন্টের জন্য চালু করা হয়নি।
ফেসবুক জানিয়েছে, ধাপে ধাপে বিভিন্ন দেশে এই সুবিধা চালু করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
কোথায় দেখা যাবে ভেরিফায়েড ব্যাজ
ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে ব্যবহারকারীর প্রোফাইলে ভেরিফায়েড ব্যাজ দেখা যাবে। শুরুতে এই ব্যাজ পাওয়া যাবে:
পরবর্তী সময়ে ফিড পোস্টেও এই ব্যাজ যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
একবার যাচাই সম্পন্ন হলে ব্যবহারকারীর সঙ্গে ব্যাজটি ফেসবুকের বিভিন্ন জায়গায় থাকবে। ফলে কেউ মার্কেটপ্লেসে কোনও পণ্য দেখার সময়, ডেটিং প্রোফাইল পর্যালোচনা করার সময় কাজ করবে। কোনও পণ্যের বিষয়ে যোগাযোগ করা, নতুন কারও সঙ্গে পরিচিত হওয়া বা অনলাইন পরিচয় দেখার সময় বুঝতে পারবেন অ্যাকাউন্টটি যাচাই করা হয়েছে।
ভেরিফায়েড ব্যাজের অর্থ কী
ফেসবুক ভেরিফায়েড ব্যাজের অর্থ হলো, সংশ্লিষ্ট প্রোফাইলটি একজন বাস্তব ব্যক্তির সঙ্গে যুক্ত এবং ওই ব্যক্তি সেলফি যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।
এটি ব্যবহারকারীদের জন্য একটি দ্রুত সংকেত হিসেবে কাজ করবে। কোনও পণ্যের বিষয়ে যোগাযোগ করা, নতুন কারও সঙ্গে পরিচিত হওয়া বা অনলাইন আলোচনায় অংশ নেওয়ার আগে এই ব্যাজ দেখে ব্যবহারকারীরা ধারণা নিতে পারবেন যে অপর প্রান্তে একজন সত্যিকারের ব্যক্তি রয়েছেন।
ফেসবুক স্পষ্ট করেছে, ভেরিফায়েড ব্যাজ পাওয়ার অর্থ এই নয় যে ওই ব্যক্তিকে ফেসবুক সমর্থন করছে বা তার সব তথ্য ও কার্যক্রমের নিশ্চয়তা দিচ্ছে।
ভেরিফায়েড ব্যবহারকারীদেরও মেটার সব নীতিমালা মেনে চলতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে কমিউনিটি স্ট্যান্ডার্ড এবং কমার্স পলিসি।
ফেসবুকের মতে, এআইয়ের কারণে অনলাইনে কৃত্রিম পরিচয় তৈরি করা সহজ হয়ে উঠছে। তাই প্রকৃত মানুষকে চেনার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য সংকেত প্রয়োজন।
এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো ফেসবুকের গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতাগুলো যেন প্রকৃত মানুষের সঙ্গে যুক্ত থাকে এবং ব্যবহারকারীরা আরও আস্থার সঙ্গে প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে পারেন।
]]>সম্প্রতি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিনেমাওয়ালা এন্টারটেইনমেন্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তটিনীর প্রথম লুক প্রকাশ করেছে। এরপর থেকেই নাটকটি নিয়ে দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
‘ফিরে আসার গল্প’ ধারাবাহিকে তটিনীর পাশাপাশি অভিনয় করবেন খায়রুল বাসার, শহীদুজ্জামান সেলিম, সুমাইয়া শিমু, ফাইজুল ইয়ামিন, মনিরা মিঠু, মাহমুদুল ইসলাম মিঠু, দীপা খন্দকার, এজাজুল ইসলাম ও মুকিত জাকারিয়াসহ আরও অনেকে।
এ নাটকের মাধ্যমে দীর্ঘদিন পর ধারাবাহিক নাটকে ফিরছেন অভিনেত্রী সুমাইয়া শিমুও।
নির্মাতা মোস্তফা কামাল রাজ জানান, পারিবারিক গল্পকে কেন্দ্র করেই নির্মিত হচ্ছে নতুন এই ধারাবাহিক। আগামী মাসে এর শুটিং শুরু হবে। পরে নাটকটির সম্প্রচারসূচি জানানো হবে।
এর আগে রাজের ‘তোমাদের গল্প’, ‘তোমাদের গল্প ২’ এবং ‘সম্পর্কের গল্প’ নাটকে অভিনয় করে প্রশংসা কুড়িয়েছেন তটিনী। সম্প্রতি তিনি নির্মাতার নতুন নাটক ‘পথহারা’-এর শুটিংও শেষ করেছেন।
অন্যদিকে, তটিনীকে সর্বশেষ দেখা গেছে জাকারিয়া সৌখিন পরিচালিত ‘কাজল চোখের মেয়ে’ নাটকে। ফারহান আহমেদ জোভানের সঙ্গে তার জুটি দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে। ইউটিউবে প্রকাশের মাত্র আট দিনেই নাটকটি ১৩ মিলিয়নের বেশি ভিউ অর্জন করেছে।
এদিকে আজ প্রকাশ পাচ্ছে তটিনীর নতুন নাটক ‘অমর প্রেম’। এতে তার বিপরীতে অভিনয় করেছেন পার্থ শেখ।
সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেলেও আপাতত নাটকেই মনোযোগ দিতে চান তটিনী। নিজের ভাষায়, আরও প্রস্তুতি নিয়েই বড় পর্দায় অভিষেক করতে চান তিনি।
]]>দলে ফিরেছেন জাকের আলি অনিক, সৌম্য সরকার। চমক হিসেবে আছেন পেসার মুশফিক হাসান।
১৩ আগস্ট ডারউইনে চোটের কারণে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে পাওয়া যাবে না লিটন কুমার দাসকে। লিটনের অনুপস্থিতি পূরণ করতেই জাকেরকে ডাকা হয়েছে। ২০২৪ সালের অক্টোবরে অভিষেকের পর ৬ টেস্টে ৩০.৬৩ গড়ে করেছেন ৩৩৭ রান। চারটি অর্ধশতক রয়েছে তার ঝুলিতে। যদিও তিন অঙ্কের দেখা এখনো পাননি, তবে ২০২৪ সালের নভেম্বরে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সিরিজেই ৯১ রানের ইনিংস খেলে সেঞ্চুরির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি।
অন্যদিকে স্কোয়াডে নতুন মুখ হিসেবে জায়গা পেয়েছেন তরুণ পেসার মুশফিক হাসান। এর আগে চোটের কারণে পুরো সিরিজ থেকেই ছিটকে গেছেন বাংলাদেশের গতিতারকা নাহিদ রানা। তার অনুপস্থিতিতে পেস আক্রমণে নতুন সমীকরণ নিয়েই অস্ট্রেলিয়া সফর শুরু করতে হবে বাংলাদেশকে। এছাড়া ৫ বছরের বেশি সময় পর টেস্ট ক্রিকেটে ফিরলেন সৌম্য সরকার। সবশেষ ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারী ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে লাল বলের ক্রিকেট খেলেছিলেন তিনি।
নাজমুল হোসেন শান্ত (অধিনায়ক), সৌম্য সরকার, সাদমান ইসলাম, মুমিনুল হক, মুশফিকুর রহিম, জাকের আলি, মেহেদী হাসান, তাইজুল ইসলাম, খালেদ আহমেদ, হাসান মাহমুদ, তানজিদ হাসান তামিম, অমিত হাসান, এবাদত হোসেন, মুশফিক হাসান, তাসকিন আহমেদ।
]]>কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার ‘আল মুকাবেলা’ অনুষ্ঠানে কথা বলেন সিরীয় প্রেসিডেন্ট। সেখানে তিনি আশা প্রকাশ করেন, ইসরায়েলের সঙ্গে এই চুক্তি শান্তি ফেরাতে ভূমিকা রাখবে। এটি মধ্যপ্রাচ্যে একটি সমন্বিত শান্তি প্রক্রিয়ার উদ্যোগ হতে পারে।
সম্প্রতি দক্ষিণ সিরিয়ায় বিমান ও স্থল হামলা বাড়িয়েছে ইসরায়েল। এই অব্যাহত অভিযানের মধ্যে দামেস্কের নমনীয় কূটনৈতিক অবস্থান সামনে এল।
শুধু চলতি মাসেই ইসরায়েলি বাহিনী সিরিয়া সীমান্তে ২০ বারের বেশি অনুপ্রবেশ করেছে। তারা সেখানে বেশ কয়েকবার হামলাও চালিয়েছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাশার আল-আসাদ সরকারের পতন হয়। এরপর সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেন সাবেক এই বিদ্রোহী নেতা।
সাক্ষাৎকারে লেবানন পরিস্থিতি নিয়ে কড়া বার্তা দিয়েছেন সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট। এ নিয়ে নানা গুজব ছড়ানো হচ্ছে। তবে শারা স্পষ্ট জানান, প্রতিবেশী লেবাননে সামরিক হস্তক্ষেপের কোনো ইচ্ছা সিরিয়ার নেই। অবশ্য লেবাননের সংকট কাটাতে নিয়মিত আলোচনা চলছে। দেশটিতে স্থিতিশীলতা ফেরাতে সরকারকে কীভাবে সহায়তা করা যায়, সে আলোচনা চালাচ্ছে দামেস্ক। শারা সতর্ক করে বলেন, লেবাননে যেকোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা সিরিয়ার ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
একই সঙ্গে লেবাননের সার্বভৌমত্বকে পূর্ণ সমর্থন জানান সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট। অস্ত্র রাখার ওপর বিধিনিষেধ এবং সংঘাত নিয়ন্ত্রণে রাখার পক্ষে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেন তিনি। শারা দাবি করেন, লেবাননে অস্ত্রের একক নিয়ন্ত্রণ থাকতে হবে রাষ্ট্র ও সেনাবাহিনীর হাতে। যুদ্ধ বা শান্তির মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতাও তাদের থাকা উচিত। এ ছাড়া প্রতিবেশী ইরাকের সঙ্গেও সিরিয়ার সম্পর্কের উন্নতি হচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ক্রমান্বয়ে ইতিবাচক দিকে যাচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত নিয়ে শারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এই যুদ্ধ যেন আর ছড়িয়ে না পড়ে, সেটাই তাঁর চাওয়া। সংঘাত ছড়ালে বড় ধরনের আঞ্চলিক বিপর্যয় দেখা দিতে পারে। তিনি বলেন, তাঁর সরকার একটি আঞ্চলিক সমাধানের পক্ষে। এই সমাধান উত্তেজনা কমাবে এবং সামগ্রিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করবে।
]]>রোববার (২৬ জুলাই) ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো দা, কোদাল, নিহতের রক্তমাখা পোশাক ও একজোড়া স্যান্ডেল উদ্ধার করা হয়েছে।
নিহত সোহেল সরকার ময়মনসিংহ সদর উপজেলার পরানগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া গ্রামের নূরুল ইসলামের ছেলে।
পুলিশ জানায়, গত ১৬ জুলাই সকাল সাড়ে ৮টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে নিখোঁজ হন সোহেল। বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
এরপর গত ২২ জুলাই বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের খবরে পুলিশ ও স্বজনরা পরানগঞ্জ ইউনিয়নের মীরকান্দাপাড়া গ্রামের অম্বিকাগঞ্জ কলেজ মাঠের উত্তর পাশের একটি বাগানে গিয়ে একটি বিচ্ছিন্ন মাথা দেখতে পান। পরে ঘটনাস্থলের পাশেই স্কুলের সীমানাপ্রাচীর-সংলগ্ন মাটির নিচ থেকে মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করা হয়। স্বজনরা মরদেহটি সোহেল সরকারের বলে শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় ২৫ জুলাই নিহতের বাবা নূরুল ইসলাম বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ও কোতোয়ালী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশনায় একটি বিশেষ তদন্ত দল কাজ শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জড়িতদের শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- মীরকান্দাপাড়া গ্রামের আব্দুল রশিদের ছেলে সেলিম ওরফে নাপিত সেলিম (৩২), একই গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে মো. সেলিম (৩০), রমজান আলীর ছেলে আব্দুল কাদির ওরফে আলামিন (২৫) এবং আব্দুল জলিলের ছেলে লাল চাঁন ওরফে লালু (২৬)।
পুলিশ আরও জানায়, ২৫ জুলাই দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে ভালুকা উপজেলার আঙ্গারগাড়া গ্রাম থেকে মো. সেলিমকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কোতোয়ালী থানার সারবাজার এলাকা থেকে সেলিম ওরফে নাপিত সেলিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই দিন মীরকান্দাপাড়া এলাকা থেকে আলামিন এবং শহরের মহারাজা রোড এলাকা থেকে লালুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পুলিশের কাছে দেওয়া জবানবন্দিতে মো. সেলিম দাবি করেছেন, তার দ্বিতীয় স্ত্রীকে নিয়ে সোহেল সরকার গত তিন মাস ধরে গোপনে ঢাকায় বসবাস করছিলেন। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি কৌশলে সোহেলকে ঢাকা থেকে ডেকে আনেন। পরবর্তীতে অন্য আসামিদের সঙ্গে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করা হয় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তিনি।
পুলিশের দাবি, হত্যার পর মরদেহ গুমের চেষ্টা করা হয়েছিল। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন জড়িত ব্যক্তি পলাতক রয়েছেন। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
]]>তিনি বলেন, মনে রাখতে হবে, যারা পালিয়ে গেছে তারা বসে নেই। তাদের সাঙ্গপাঙ্গরা আশপাশেই আছে। আর যারা মনে করেছিলেন ষড়যন্ত্র করে ২০০৯ সালের মতো ক্ষমতায় চলে যাবেন, তাদেরও অনেক কষ্ট হচ্ছে, কারণ জনগণ তাদের ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে দিয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে জেটেব আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জাহিদ হোসেন বলেন, মনে রাখতে হবে, এই জনআকাঙ্ক্ষা ও জনগণের ঐক্যের মধ্যে ফাটল ধরানোর জন্য কেউ কেউ বিভিন্নভাবে চেষ্টা করতে পারেন। কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জনগণের দল, জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর দল।
তিনি বলেন, সকল ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অধিকার সংরক্ষণের দলের নাম বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল।
বিএনপির এই নেতা বলেন, এই দলের অতীত যেমন রয়েছে, তেমনি বর্তমানও রয়েছে। ইনশাআল্লাহ আমাদের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের আগামীর বাংলাদেশ হবে একটি মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ— যেখানে সুশাসন থাকবে, অন্যায়, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারের কোনো সুযোগ থাকবে না এবং মানুষ মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে।
তিনি বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ যদি আমরা বিনির্মাণ করতে পারি, তাহলে সাজ্জাদ বলেন, সেলিম তালুকদার বলেন কিংবা ইঞ্জিনিয়ার আতিক বলেন— আমাদের শত শহীদ, শত গুমের যে যাতনা আমরা বহন করছি, তা থেকে আমরা বেরিয়ে আসতে পারব। দেশের মানুষ মুক্তি পাবে এবং দেশের মানুষ সেই প্রতিজ্ঞায় এগিয়ে যাবে।
জাহিদ হোসেন বলেন, সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় জুলাই শহীদ, পঙ্গুত্ববরণকারী ও চিকিৎসাধীন ব্যক্তিদের জন্য একটি অধিদপ্তর করেছে। যেখানে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের মুক্তিযোদ্ধাদের স্বার্থ সংরক্ষণ, বিগত গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে যারা গুম হয়েছেন, শহীদ হয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং সর্বোপরি জুলাই-আগস্টে যারা শহীদ, পঙ্গুত্ববরণকারী ও বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন— তাদের পরিবার ও সদস্যদের পাশে দাঁড়ানোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, তাদের কাছ থেকেই সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আহমাদ আজম খানকে নির্দেশ দিয়েছেন। সে অনুযায়ী কার্যক্রম চলছে।
তিনি আরও বলেন, আজকে আমরা আমাদের তিনভাইসহ আরও শত শত ভাইকে হারিয়েছি। হাজার হাজার মানুষ পঙ্গুত্ববরণ করেছেন। ইলিয়াস আলীকে দিয়ে শুরু হয়েছিল। এরপর শত শত নেতাকর্মী গুম হয়েছেন, আজকে তারা কোথায় আছেন আমরা জানি না।
জাহিদ হোসেন বলেন, জুলাই শহীদদের অনেকের কবর আমরা খুঁজে পেয়েছি বা তাদের দাফন করার সুযোগ হয়েছে। কিন্তু যারা গুম হয়েছেন, তারা জীবিত না মৃত— তাদের পরিবার জানে না, আমরাও জানি না।
তিনি বলেন, তাদের সন্তান ও পরিবারের সদস্যরা বলতে পারেন না তাদের স্বজন কোথায়। এই দুর্বিষহ অবস্থা, মনোকষ্ট ও যাতনা একটি পরিবারকে সারাজীবন বহন করতে হবে। শুধু এই প্রজন্ম নয়, পরবর্তী প্রজন্মও এই কষ্ট বহন করবে। যারা এই কষ্টের মধ্যে পড়েননি, তারা বুঝতে পারবেন না এটি কী ধরনের কষ্ট।
তিনি বলেন, আজকে আমাদের চিন্তা করার সময় এসেছে। কেউ কেউ ভেতর থেকে, কেউ বাইরে থেকে বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিচ্ছেন, হুংকার দিচ্ছেন। বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের কথাও পত্র-পত্রিকায় শোনা যায়।
জাহিদ হোসেন বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, বিগত ১৯ বছর গণতন্ত্রহীন থাকার পর ১২ ফেব্রুয়ারি একটি জাতীয় নির্বাচন হয়েছে, যেখানে মানুষ দীর্ঘদিন পর ভোট দিয়েছে।
তিনি বলেন, ২০০৮ সালেও মানুষ নিশ্চিন্তে ভোট দিতে পারেনি। তখনও প্রকৃত ভোটের প্রতিফলন মানুষ দেখেনি। এবারই প্রথম জনগণের ভোট, জনগণের অংশগ্রহণের ভোট হয়েছে। মানুষ নিশ্চিন্তে, নির্বিঘ্নে ও নির্ভয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে।
তিনি আরও বলেন, মানুষ যাদের দায়িত্ব দিয়েছে, যাদের ওপর আস্থা রেখেছে, সেটি মনে রাখতে হবে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সেই দায়িত্ব পেয়েছে।
জাহিদ হোসেন বলেন, যখনই গণতন্ত্র বাধাগ্রস্ত হয়েছে, গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কিংবা দেশ ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে, তখনই বিএনপি মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চে যখন কেউ কেউ পালিয়ে গিয়েছিলেন, কেউ কেউ আত্মসমর্পণ করেছিলেন, তখন চট্টগ্রাম থেকে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের মেজর জিয়াউর রহমান ‘আই দেন উই’ বলে স্বাধীনতার ঘোষণা ও বিদ্রোহের সূচনা করেছিলেন এবং অস্ত্র হাতে রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন।
তিনি বলেন, দেশ যখন অন্ধকার অমানিশার দিকে যাচ্ছিল, তখন জিয়াউর রহমান হাল ধরেছিলেন।
জাহিদ হোসেন বলেন, আমরা তখন কানে শুনেছি কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে সেই ঘোষণা। কিন্তু আজ সেই ইতিহাসও মুছে ফেলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর যখন আবারও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা হয়েছিল এবং দেশের স্বাধীনতা বিপন্ন হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন সিপাহী-জনতা আস্থা রেখেছিল সেই মানুষটির ওপর, যিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন এবং যার কোনো পিছুটান ছিল না।
তিনি বলেন, তখন বিএনপি নামের কোনো দল ছিল না। কিন্তু জনগণ ও সিপাহী-জনতার আস্থা ছিল মেজর জেনারেল জিয়াউর রহমানের প্রতি। বন্দিদশা থেকে তাকে মুক্ত করে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
জাহিদ হোসেন বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন এমন একজন দেশপ্রেমিক মানুষ, যার প্রতি মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস ছিল। তিনি মাত্র সাড়ে তিন বছর রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছিলেন। দেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তিনি প্রতিটি ক্ষেত্রে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি বলেন, যার কারণে আজ বাংলাদেশকে আধুনিক বাংলাদেশের জনক হিসেবে শহীদ জিয়াউর রহমানের নাম উল্লেখ করা হয়।
তিনি বলেন, এরই ধারাবাহিকতায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া সারা দেশ ঘুরে জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে দলকে জনগণের দলে পরিণত করেছেন। ১৯৯১ সালের অবাধ নির্বাচনে জনগণের ভালোবাসায় বিএনপি ও দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছিলেন।
জাহিদ হোসেন বলেন, ১৯৯০ সালের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের পরও মানুষ যে দলের প্রতি আস্থা রেখেছিল, সেটি ছিল বিএনপি।
তিনি বলেন, পরবর্তীতে ১৯৯৪ সালের আন্দোলনের কথা মনে রাখতে হবে। অনেকে মিলে ১৭৪ দিন আন্দোলন ও হরতাল করেছিলেন। কিন্তু বিএনপি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করে দেশের প্রতি দায়িত্ব পালন করেছে।
তিনি বলেন, বিএনপি দলগতভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কিন্তু কখনো ক্ষমতাকে আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করেনি। বিএনপির মধ্যে জনমতের প্রতি শ্রদ্ধা ছিল, কোনো স্বৈরাচারী মানসিকতা ছিল না।
জাহিদ হোসেন বলেন, ওয়ান-ইলেভেনের পর যারা ক্ষমতায় এসেছিলেন, তারা ষড়যন্ত্র করে একটি দলকে ক্ষমতায় বসিয়েছিলেন। এরপর দীর্ঘদিন ভোটের প্রয়োজন হয়নি।
তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে ভোটার না থাকলেও নির্বাচন হয়ে গেছে। দিনের ভোট রাতে হয়েছে। অথচ তখন এমন একটি শাসন ব্যবস্থা ছিল যে সাগর-রুনি হত্যার বিচার আজও হয়নি, চার্জশিটও দেওয়া হয়নি, ১২০ বারের বেশি মামলার তারিখ পিছিয়েছে।
তিনি বলেন, মানুষের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল। মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক স্বাধীনতা পুরোপুরি কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
জাহিদ হোসেন বলেন, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির নির্বাচনেও এমন পরিস্থিতি হয়েছিল যে প্রার্থী পাওয়া যায়নি। এরপর একের পর এক আন্দোলনের মধ্য দিয়ে তা চূড়ান্ত রূপ নেয়।
তিনি বলেন, যাদের দুধ-কলা দিয়ে পুষলেন, যাদের লালন করলেন, তারা শেষ পর্যন্ত পাশে থাকতে পারেনি। তারা কোনো সুরক্ষা দিতে পারেনি।
তিনি বলেন, শিক্ষা হলো— জনগণের পাশে না থাকলে, জনগণের ভালোবাসা অর্জন করতে না পারলে, যত প্রশাসন বা বাহিনীর ওপর নির্ভর করা হোক না কেন, শেষ পর্যন্ত কাচের ঘরের মতো সব ভেঙে যেতে হয়।
তিনি বলেন, জনগণের ভালোবাসা না থাকলে ক্ষমতায় থাকাও অনিশ্চিত হয়ে যায়, জীবন রক্ষাও অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
জাহিদ হোসেন বলেন, অন্যদিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হয়েছে, তিনি ১৯৮১ সালের ৩০ মে শাহাদাত বরণ করেছেন। কিন্তু তার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কারণে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের জানাজায় মানুষ উজাড় করে অংশ নিয়েছিল।
তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়া হয়নি, বিদেশ যেতে দেওয়া হয়নি, মিথ্যা ও ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় আটক রাখা হয়েছিল। কিন্তু, আল্লাহর মেহেরবানিতে ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিনি ইন্তেকাল করার পর সারা দেশের মানুষ তার কফিনের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং শ্রদ্ধা জানিয়েছে।
তিনি বলেন, যারা গর্ব ও দম্ভ করেছিলেন, আজ তাদের অবস্থান কোথায়, সেটিই সময়ের শিক্ষা।
সবশেষে জাহিদ হোসেন বলেন, আমাদের আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখা উচিত এবং অতীত থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত। আমাদের বর্তমানকে এমনভাবে সাজাতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হয়।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
জেটেবের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. ফখরুল আলমের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার এ বি এম রুহুল আমীন আকন্দের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় সংগঠনটির নেতাকর্মী ও জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
]]>রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে নবীন আইনজীবীদের বরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো ব্যক্তির প্রতি অবিচার করতে চায় না। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই চলছে। তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ীই পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে সরকার সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই অনুসরণ করবে।
অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে, যা দেশের দুই থেকে তিনটি জাতীয় বাজেটের সমপরিমাণ। তিনি আরও অভিযোগ করেন, খুলনায় পৌনে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং পিরোজপুরে এলজিইডির সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে কাগজে-কলমে উন্নয়ন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
জুলাই অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, বর্তমানে মিথ্যা মামলার প্রবণতা আগের তুলনায় অনেক কমেছে।
নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আইন পেশায় সফল হওয়ার কোনো সহজ পথ নেই। নিয়মিত অধ্যয়ন, দক্ষতা অর্জন, পেশাগত সততা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মানসিকতা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। একইসঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি, তা নিজের রাজনৈতিক দলের কেউ হলেও।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রায় এক হাজার ৫৪ জন নবীন আইনজীবী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আইনজীবীদের পেশাগত নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
]]>